তাঁর হাত দেখে বৃদ্ধা জ্যোতিষী বলেছিলেন আয়ু বেশি নেই, তারপর ঘটল ভয়ঙ্কর ঘটনা..
বেঙ্গলি নিউজরুম-- হাত দেখে হস্তরেখা-বিদ ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন তিনি বেশি দিন বাঁচবেন না। তারপর তাঁকে একটি চকোলেট খেতে দিয়েছিলেন। আর চকোলেটটি খাওয়ার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ব্রাজিলের সাতাশ বছরের ওই তরুণী (Brazilian Woman Killed After Eating Chocolate) । গত আগস্টমাসে ফার্নান্ডেজ ভালোজ পিন্টো নামে তরুণীর মৃত্যুর এমন রহস্যময় ঘটনা ঘটে। মৃত তরুণীর আত্মীয় জানান চকোলেটটি খাওয়ার পর পিন্টো বমি করতে শুরু করে। চোখ ঝাপসা। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই সবশেষ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ব্রাজিলের মেসিওর সিটি সেন্টার দিয়ে পিন্টোর হাঁটার সময়। মেসিওরকে ভবিষ্যৎ বক্তাদের মক্কা বলা হয়। তিনি যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন,তখন এক বয়স্ক মহিলা তাঁকে থামান। তাঁর হাতের তালু দেখে ভবিষ্যৎবাণী করে বলেন এক সন্তানের মা পিন্টোর কয়েকদিন আয়ু রয়েছে। তারপরই উপহার হিসেবে একটি চকোলেট খেতে দেন তাকে। পিন্টোর আত্মীয় জানান কীভাবে চকোলেট খাওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। প্যাক করার সময় কোনও কিছু ঘটেনি। বোঝা যায়নি সেটা খেলে কোনও বিপদ হতে পারে। পিন্টোর খুব খিদে পেয়েছিল। চকোলেটটি খাবে বলে ঠিক করে। সেটি খাওয়ার পর অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন তিনি। মোবাইলে টেক্সট করে ঘটনাটি বাড়ির সবাইকে জানান। পিন্টো লিখেছিলেন, আমার হার্টটা রীতিমতো দৌড়চ্ছে। আমার খুব লাগছে। তবে মুখে স্বাদ রয়েছে। খুব তেতো, বাজে। চোখে ঝাপসা দেখছি। প্রচণ্ড দুর্বল লাগছে। আরও লেখেন, আমি জলের ট্যাঙ্কে হেলান দিয়ে আছি। আমার অবস্থা খুব খারাপ লাগছে। আমি ঈশ্বরকে দেখতে পেয়েছি।
পিন্টোর অবশ্য আগে থেকেই অসুখ ছিল।
গ্যাসট্রাইটিস, আলসার তাঁর ছিল। তাঁর পরিবারের লোকেরা প্রথমে খারাপ কিছু দেখতে
পাননি। তবে হস্তরেখা বিদের সঙ্গে দেখা হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁদের সন্দেহ হতে শুরু
করে। পিন্টো লিখেছিলেন সিটি সেন্টারে চকোলেটটি নিয়েছিলেন। তিনি সেটা খেয়ে ফেলেন।
খাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এক বয়স্ক মহিলা বলে তাঁর হাত থেকে চকোলেট নিতে
দ্বিধা করেননি। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর তাঁর আত্মীয় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
কিন্তু চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তাঁর মৃত্যু
হয় চার আগস্ট। টক্সিলজি রিপোর্টে জানা যায় পিন্টো উচ্চমাত্রায় কীটনাশক সালফোচেপ
ও টারবুফো গ্রহণ করেছিলেন। নমুনা পরীক্ষা করে ওই জিনিসগুলিতে অত্যন্ত বিষ রয়েছে।
তবে চকোলেট খেয়ে ওই সাতাশ বছরের তরুণীর মৃত্যু হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া
যায়নি। কেউ তাঁকে খুন করার জন্য ওই বয়স্ক মহিলাকে ভাড়া করেছিল, তাও জানা যায়নি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন