এনসিইআরটির সিলেবাস থেকে বাদ বাবরি মসজিদ !
দ্য বেঙ্গলি নিউজরুম: রামমন্দিরের ধাক্কায় বাবরি মসজিদ বাদ এনসিইআরটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠক্রম থেকে। ১৯৯২ সালে অযোধ্যা থেকে বাবরি মসজিদকে চিরতরে উচ্ছেদ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল করসেবকরা। বাকিটা ইতিহাস। আর সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিকে সুকৌশলে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। যদিও এবারের ভোটে সেই রাম তাদের রক্ষা করতে পারেনি। তাদের গর্জন থেমে গিয়েছিল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বদলে ২৪১টি আসনে। চব্বিশের ভোটে যে অযোধ্যায় রামমন্দির কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানিয়েছিল তাদের সরকার, সেই অযোধ্যায় হেরে গিয়েছে তাদের প্রার্থী। মুখ পুড়েছে গেরুয়া শিবিরের। কিন্তু সে যাই হোক, এবার এনসিইআরটির দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠক্রম থেকে বাদই দিয়ে দেওয়া হল বাবরি মসজিদকে। যেন কোনওদিনই অস্তিত্ব ছিল না ওই মসজিদের।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠক্রমে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে এবং এতদিন ধরে পড়ুয়ারা পরে এসেছে,তাতে লেখা ছিল ষোলশো শতাব্দীতে মোঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মির বাকি বাবরি মসজিদ তৈরি করিয়েছিলেন। যদিও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের তরফে নতুন যে সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে এটি তিন গম্বুজের একটি কাঠামো, যা ১৫২৬ সালে শ্রীরামের জন্মস্থানের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই কাঠামোর ভেতরে ও বাইরে হিন্দুদের নানা চিহ্ন ও প্রতীক দেখা যায়। অযোধ্যা নিয়ে বিতর্কে পুরনো সিলেবাসে উল্লেখ করা হয়েছিল, ১৯৮৬সালে মসজিদের তালা খোলার পর আদালত নির্দেশ দিয়েছিল দুপক্ষই ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবে। সিলেবাসে ছিল মসজিদ ঘিরে সারা দেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা। ছিল সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত রথযাত্রা। ১৯৯২ সালে করসেবকদের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাও উল্লেখ ছিল সিলেবাসে। মসজিদ ধ্বংসের জন্য উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংয়ের সরকারকে ভর্ৎসনার বিষয়টি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে বাজপেয়ীর বক্তব্যও। তিনি বলেছিলেন, অযোধ্যা হল বিজেপির সবচেয়ে বড় ভুল।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন