Train Accidents In India: ভারতে দশটি ভয়ঙ্কর ট্রেন দুর্ঘটনা, কবে কোথায়
দি বেঙ্গলি নিউজরুম ওয়েবডেস্ক: দার্জিলিংয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনা করমণ্ডল এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনার বিভীষিকার স্মৃতি উস্কে দিল। গত বছর এই জুন মাসেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আড়াইশো জনের মৃত্যু হয়েছিল। মাস কয়েক আগে অন্ধ্রপ্রদেশে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছেল ১৬ জনের। এদেশে মাঝেমাঝেই ট্রেন দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে শয়ে শয়ে প্রাণ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮১ সালের ছয় জুন, বিহারে। এই দুর্ঘটনা শুধু ভারতই নয়, বিশ্বে এটি ছিল ভয়াবহতম রেল দুর্ঘটনা (Deadly Train Accidents In India)। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল প্রায় আটশো জনের। কারো মতে, সাইক্লোনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। কেউ কেউ মনে করেন আচমকা বৃষ্টির জন্য দুর্ঘটনা ঘটেছিল। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে ট্রেন লাইনে মোষ চলে আসায় চালক আচমকাই ব্রেক কষেন। তারপরই ঘটে যায় বিশ্বের ভয়াবহতম রেল দুর্ঘটনা। ট্রেন সোজা গিয়ে পড়ে নদীতে। ১৯৯৫ সালের কুড়ি আগস্ট ফিরোজাবাদের কাছে দিল্লিগামী পুরুষোত্তম এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ে। চালকের ভুলে পেছন থেকে কালিন্দী এক্সপ্রেসে ধাক্কা মারে। মৃত্যু হয় তিনশো আটান্ন জনের।
এর ঠিক চার বছর পরে ১৯৯৯ সালে গাইসলে নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলের কাটিহারে অবধ-অসম এক্সপ্রেস ও ব্রহ্মপুত্র মেলের মধ্যে ভয়াবহ সঙ্ঘর্ষে মৃত্যু হয় দুশো আটষট্টি জনের। সিগনালের ভুলে দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গিয়েছিল। চার নম্বর দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার আগের বছর ১৯৯৮ সালের ছাব্বিশে নভেম্বর। অমৃতসরগামী ফ্রন্টিয়ার গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেস পঞ্জাবের খান্নায় দুর্ঘটনায় পড়ে। মৃত্যু হয় ২১২ জন যাত্রীর। গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেসটি রেলের ট্র্যাক ভাঙা থাকায় লাইনচ্যুত হয়ে যায়। সেইসময় জম্মু-তাওয়াই এক্সপ্রেস পেছন থেকে এসে ছটি লাইন কামরায় ধাক্কা মারে। দুমড়ে মুছড়ে যায় কামরাগুলি। ২০১০ সালের পাঁচ মে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কথা সম্ভবত অনেকেরই মনে আছে। মাওবাদীদের হামলায় মুম্বইগামী হাওড়া কুরলা তিলক জ্ঞানেশ্বরী সুপার ডিলাক্স এক্সপ্রেস বিস্ফারণ ঘটে লাইনচ্যুত হয়। সন্দেহ করা হয় এটি অন্তর্ঘাতমূলক কাণ্ড। মাঝ রাত দেড়টার সময় খেমশুলি ও সারদিনায় লাইনচ্যুত হয় এক্সপ্রেসটি। তারপর একটি মালগাড়ি ধাক্কা মারে। মৃত্যু ১৭০জন যাত্রীর। ১৯৬৪ সালের ৬ ডিসেম্বর পামবাম-ধানুসকোডি প্যাসেঞ্জার ট্রেন দুর্ঘটনায় দেড়শোজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। রামেশ্বরম সাইক্লোন, যা ধনুষ্কোটি সাইক্লোনের জেরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। অফসিজন থাকায় ট্রেনে দেড়শোজন যাত্রী ছিলেন। সংখ্যায় বেশি থাকলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তো বলে মনে করা হয়। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরের ন তারিখে হাওড়া-নিউ দিল্লি রাজধানা এক্সপ্রেস গয়া ও ডেহরি অন শন স্টেশনের মাঝে লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় একশো চল্লিশ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। ব্রিটিশ আমলে তৈরি পুরনো রেল লাইনে ম্যানুয়াল ফল্টের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবল বৃষ্টির জন্য ট্র্যাকে ফাটল তৈরি হয়। ফলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এ ছাড়া ১৯৫৪ সালের আট সেপ্টেম্বরে হায়দ্রাবাদ থেকে পঁচাত্তর কিলোমিটার দূরে যশন্তী নদীর ওপর সেতু ভাঙার কারণে ট্রেনটি সেতু ভেঙে নদীতে পড়ে। মৃত্যু হয় একশো উনচল্লিশজন যাত্রী মারা যান। ১৯৫৬ সালের দোসরা সেপ্টেম্বরে হায়দ্রাবাদের মেহবুবনগর ও জাদচেরলার মধ্যে সেতু ভেঙে দুর্ঘটনায় পড়ে একটি ট্রেন। একশো পঁচিশ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। তারও আগে ১৯৩৭ সালের ১৭ জুলাই কলকাতা থেকে আসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি পাটনা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বিহাটা স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনায় পড়ে একটি মৃত্যু হয় একশো উনিশজন যাত্রীর। জখম হয়েছিলেন ১৮০জন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন