RG KAR AGITATION: প্রতিবাদীদের আন্দোলন থামাতে আর কি কি পথ নিতে চলেছে শাসকদল?
দি বেঙ্গলি নিউজরুম: কুণাল ঘোষের মতো লোকজনদের সামনে রেখে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনকে (In Which Way TMC Government Trying To Stop Agitation) থামাতে চাইছে শাসকদল? জুনিয়র চিকিৎসদের অবস্থানে অশান্তির ছক কষা হচ্ছে, এমন আশঙ্কার ইঙ্গিত দিয়ে একটি অডিও ক্লিপিং প্রকাশ্যে এনেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ, যে অডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা গিয়েছে। তাকে গুরুত্বও দিতে চাননি আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেটি ভুয়ো বলেই দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী থেকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা। এমনকী আন্দোলনে সামিল হওয়া সাধারণ মানুষও বিতর্কিত অডিও ক্লিপের সত্যতা নিয়ে রীতিমতো সন্দিহান। কারণ এর আগে এমন অডিও ভুয়ো প্রমাণিত হয়েছে।
তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের বিচার চেয়ে আন্দোলন যখন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই আসরে নেমে পড়েছে শাসকের লোকজনেরা, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শাসক দলের এই আন্দোলন দমানোর কৌশল হিসেবে একদিকে নেতাদের দিয়ে হুমকি, হামলার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ড্যামেজ কন্ট্রোলের ব্যর্থতা ক্রমশ প্রকট হতে শুরু করেছে। তিলোত্তমার বিচারের দাবিতে যখন গোটা বাংলা মাথা খুঁড়ে মরছে, ঠিক তখনই উৎসবে সবাইকে ফেরার কথা বলে বাঙালির চিরকালীন আবেগকে উস্কে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসক শিবিরের ধারণা এই উৎসব-আবেগ-টোটকাতেই মানুষের এই আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যাবে। এ নিয়ে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে তৈরি হবে দোলাচল। উৎসব প্রিয় বাঙালি আস্তে আস্তে সরে আসবে আন্দোলন থেকে।
কিন্তু তাঁর সেই টোটকা যখন বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ফল দেয়নি কোনওভাবেই। বরং তা হিতে বিপরীত হতে চলেছে। শেষপর্যন্ত জুনিয়র ডাক্তারদের ক্ষোভ প্রশমনে ইস্তফা দেওয়ার বার্তা দিয়ে জনমানসকে বাজিয়ে দেখার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তাতে সাড়া মেলেনি। একসময়ে সরকারি বিরোধী আন্দোলনের পোড়খাওয়া নেত্রী জানেন কোন অস্ত্রে ভেঙে দেওয়া যেতে পারে আন্দোলনের মেরুদণ্ড। এবার কুণালের অডিও বার্তা থেকে শুরু করে একের পর এক অস্ত্র বের করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও শাসক শিবির মানছে এই লড়াই জেতা সহজ হবে না। কারণ পরের পর দুর্নীতিতে বিদ্ধ সরকারের কাছে এই লড়াই এখন মরণ-বাঁচনের লড়াই। প্রতিবাদ-আন্দোলনের সুনামিতে পুজোর আগেই হয় এসপার হয় ওসপারে এসে ঠেকেছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন