Abhisek Heads Trinamul ? তৃণমূলের দায়িত্ব অভিষেককে? তুঙ্গে চর্চা
দি বেঙ্গলি নিউজরুম: তাঁর বয়েস হচ্ছে। এ বয়সে সবকিছু
দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। নবান্ন থেকে রাজ্যের দশকোটি মানুষের দিকে তাঁকে অহরহ
নজর দিতে হচ্ছে। দলের সব ব্যাপারে নজর দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আগামী
কিছুদিনের মধ্যে রাজ্যের শাসক দলের গুরুদায়িত্ব দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক
বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে দিতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে এমনই খবর। যদিও এনিয়ে বহুদিন ধরেই
চর্চা চলে আসছিল বঙ্গ রাজনীতিতে। তৃণমূল নেত্রীর পর কোনও প্রবীণ নেতা বা নেত্রী
নন, নেত্রীর সঙ্গে থাকতে থাকতে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে পরিণত হয়েছেন অভিষেক। চিনেছেন
বঙ্গ রাজনীতির আঁটঘাট। উত্তাল পরিস্থিতিতেও রাজনীতিতে টিঁকে থাকতে গেলে কীভাবে
চলতে হয়, সেটাও ভালো করে জেনে গিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কয়লা কেলেঙ্কারি,লিপস
অ্যান্ড বাউন্ডসে দুর্নীতির মতো অভিযোগ থাকলেও তা ঠান্ডা মাথায় সামাল দিয়েছেন
তিনি। গত লোকসভায় রেকর্ড ভোটে জিতে প্রমাণও করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নয়, বিপুল ভোটে জেতার জন্য তাঁর একার ক্যারিশমাই যথেষ্ট।
ঘাসফুল শিবিরের দায়িত্বে অভিষেককে আনার দাবি ঠারেঠোরে অনেকদিন ধরেই শোনা
যাচ্ছে। তৃণমূল নেত্রীর পক্ষে প্রশাসন ও দলের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা সম্ভব নয়। তবে
জায়গায় কোনও প্রবীণ নেতাকে বসালে কর্মী-সমর্থকরা কতটা মেনে নেবেন, তা নিয়ে সংশয়
রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে অনেকেরই আশঙ্কা দলের মাথা থেকে মমতা সরে গেলে
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে জনসমর্থন ধরে রাখা সম্ভব না-ও সম্ভব হতে পারে। এক্ষেত্রে
নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের অভিষেককে মেনে নিতে পারেন দলের
কর্মী-সমর্থকরা। যদিও অভয়া কাণ্ডের পর থেকে নিজেকে অনেকটাই আড়াল করে রেখেছেন
তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড। গোটা পরিস্থিতিই একা হাতে সামলেছেন মমতা। সেভাবে
আশি দিনের আন্দোলনে প্রথমে দু একবার মুখ খোলা ছাড়া সেকেন্ড ইন কমান্ডকে
প্রকাশ্যে সেভাবে দেখা যায়নি। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের
জনপ্রিয়তা তিনি কতটা ধরে রাখতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন