Ghost Presence In Bhangarh : ভানগড়ের দুর্গে কি সত্যিই অশরীরীর দেখা মেলে ?

 


দি বেঙ্গলি নিউজরুম
: ভাঙাচোরা বড় বড় পাথরের তৈরি খিলান পেরিয়ে পোড়ো দুর্গের গভীর অন্ধকারে পা দিলেই ছমছম করে ওঠে শরীর। অথচ বাইরে তখন যথারীতি ঝলমল করছে দিনের আলো কিন্তু সেখানে রোদ থাকলেও দুর্গের ভেতর আলো নেই একফোঁটাও ঝুল, মাকড়সায় ভরা ঘরের কোণ থেকে একদল চামচিকে উড়ে গেল ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে। একটা চাপা, ফিসফিসানি কি শোনা যাচ্ছে ? কানের পাশ দিয়ে কি কারও দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন ? আপনি যদি খুব সাহসী হন, আপনার সঙ্গীও যদি আপনার মতো সাহসী হন, তাহলে একটু অপেক্ষা করুন। তবে দেখবেন, কিছুক্ষণ পরেই আপনার এবং আপনার সঙ্গীর গা কিন্তু একটু ছমছম করে উঠছে। তারপর হয়তো মনে হবে, নাহ, আর বেশি দূর না এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। কে জানে কখন আবার কোন ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়এই গাঢ় গভীর অন্ধকার মোটেই ভালো ঠেকছে না। এবার মানে মানে করে ফিরে যাওয়াটাই ভালো।  মরুরাজ্য রাজস্থানের ভানগড়ের আজবগড় সেই আজবগড়ের গভীর জঙ্গলের

পাশে রয়েছে বিশাল পোড়ো এই দুর্গ, যা ভারতের ভয়ঙ্করতম ভুতুড়ে বাড়ি বলে পরিচিত। দিনের আলোয় পোড়ো দুর্গের ভেতরে ঢুকতে পারলেও সূর্যাস্তের পর আর ঢুকতে পারবেন না। রাতের বেলায় এখানে নাকি অশরীরী আত্মারা ঘুরে বেড়ায়। তবু সেসবের তোয়াক্কা না করে পরিত্যক্ত, প্রাচীন এই দুর্গে আধিভৌতিক রোমাঞ্চের টানে বহু পর্যটক এসে ভিড় জমানতবে দুধের স্বাদ মেটাতে হবে ঘোলে। কারণ, সূর্য ডোবার পর এই দুর্গে ঢোকার ছাড়পত্র পাবেন না। এ নিয়ে আর্কিওলজিক্যাল অব ইন্ডিয়ার খুবই কড়াকড়ি রয়েছে।  

আজবগড়ের দুর্গ নিয়ে স্থানীয় অঞ্চলে গেলেই শোনা যাবে এক ভয়ঙ্কর কাহিনি। কাহিনিটা এরকম, এখানকার এক রাজকন্যার প্রেমে পড়েছিলেন এক জাদুকর। কিন্তু রাজপরিবার তাঁর প্রেমে বাধা দেয়। আর এতে ভীষণ রেগে গিয়ে তিনি রাজকুমারীকে বশ করে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য কালো জাদু প্রয়োগ করেন। রাজকুমারীও কম যান না। তিনিও অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারিণী ছিলেন। তুকতাকের মাধ্যমে জাদুকরকে মেরে ফেলার ফন্দি আঁটেন। তারপর একদিন মেরেও ফেলেন জাদুকরকে মরার আগে অবশ্য ওই জাদুকর গোটা রাজপ্রাসাদে কালো জাদু প্রয়োগ করেন আর তারপরেই রাজপরিবারের সবাই একে একে রহস্যজনকভাবে মারা যেতে শুরু করেন আজবগড়ের এই দুর্গ নিয়ে এই ধরনের কাহিনি শোনা গেলেও যাঁরা এই রকম গা ছমছমে রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এই পোড়ো দুর্গ এখন এক অন্যতম আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে। রাত নামার পরেই গোটা এলাকা একেবারে সুনসান হয়ে ওঠে। তখন কাউকেই ত্রিসীমানায় দেখা যায় না। কেউ-ই আর এখানে পা বাড়ায় না। ভারতেরহন্টেডহাউসগুলোর
মধ্যে একেবারে একনম্বরে রয়েছে এই দুর্গটি।
 

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Girls Trafficking Racket By NGO :গণবিবাহের নামে মেয়ে বিক্রির চক্র, কাঠগড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা!

Alor Fulki- A Classic Documentary: আলোর ফুলকি, কল্পনার নির্যাসে তৈরি অন্য এক রূপকথার খোঁজ

RBI Clarifies On Missing Notes: কোটি কোটি পাঁচশো টাকার নোট উধাও, তথ্যাধিকারের তথ্য উড়িয়ে দিল আরবিআই!