Can CM Festive Theory Tackle Protest? আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদের ঝাঁঝ কমাতে মমতার উৎসব টোটকা কি সফল হবে?
দি বেঙ্গলি নিউজরুম: সপ্তাহ পেরোলেই পুজো। তার আগে আরজি কর কাণ্ডের ঝাঁঝে রীতিমতো ব্যাকফুটে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। গত দুমাস ধরেই প্রতিবাদ-আন্দোলনে টগবগ করছে গোটা রাজ্য। আর সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিষেক নয়,আসরে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। অস্ত্র হিসেবে উৎসবের আবেগকে উস্কে দিয়ে পরিস্থিতির রাশ নিজের হাতে নিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারের অভিজ্ঞতা প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে বলে পোড়খাওয়া তৃণমূল নেত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস।
সারা রাজ্যের মানুষ তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের বিচার চেয়ে গত দু মাস ধরে পথে নেমেছেন। প্রতিবাদে সামিল হয়েছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, যা দেবীপক্ষের শুরুতেও বিন্দুমাত্র ম্নান হওয়া দূরের কথা, বরং আরও তীব্র হতে শুরু করেছে। কখনও রাতদখল,কখনও ভোরদখল,কখনও মানব-বন্ধন থেকে শুরু করে মোমবাতি মিছিলে অংশ নিয়ে আরজি কর কাণ্ডের সুবিচারের দাবি জানিয়ে চলেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষজন। মহালয়ায় জুনিয়ার চিকিৎসকদের মহামিছিলে পা মিলিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিনই চলছে প্রতিবাদ মিছিল। বিচার চাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্রমাগত চলছে বিষোদগার। প্রশ্নের মুখে পুলিশ প্রশাসনও। এরইমধ্যে প্রতিবাদ-আন্দোলনকে আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন শাসকদলের বিধায়ক-নেতা থেকে কর্মীরা। কোথাও আক্রমণ পরিণত হয়েছে পরিষ্কার গুণ্ডামিতে।
এমন আবহে প্রতিবাদ-আন্দোলনকে দমানোর পেছনে শাসকদলের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন বারবার প্রতিবাদ-আন্দোলনকে ভোঁতা করার চেষ্টা করছে শাসক দল, তা নিয়ে প্রশাসনের আচরণ নিয়েও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ কেউ আরজি কর কাণ্ডে শাসকদলের এমন কার্যকলাপের আড়ালে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তা খোঁজারও চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন। আর এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ-আন্দোলন থেকে রাজ্যবাসীর নজর ঘোরানোর জন্য আসরে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কারণ মমতা ছাড়া অন্য কোনও নেতা-নেত্রীর পক্ষে এই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়। একাধিক দুর্নীতিতে বিদ্ধ সরকারের অন্য কোনও নেতা-নেত্রীর পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা মানুষ একবার পুজোর উৎসবে সামিল হলে প্রতিবাদ-আন্দোলনের তেজ অনেকটাই থিতিয়ে যাবে। আর সেই সুযোগে পরিস্থিতির রাশ শাসকদলের হাতে চলে আসবে। কিন্তু প্রশ্ন, সত্যিই কি মুখ্যমন্ত্রীর উৎসবে ফেরার টোটকায় প্রতিবাদ-আন্দোলনের তীব্রতা কমে যাবে,নাকি নির্যাতিতার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এমন প্রতিবাদ চলবে? এর উত্তরের জন্য অবশ্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
We want Justice✔️
উত্তরমুছুন