TMC Government Vs Junior Doctors: শাসক দলের সঙ্গে জুনিয়ার ডাক্তারদের সঙ্ঘাত বাড়ছে, পেছনে কারা ?
দি বেঙ্গলি নিউজরুম: আমরণ অনশনের দশ দিনে ক্রমশ
ঘোরালো হচ্ছে জুনিয়ার চিকিৎসক বনাম রাজ্য সরকারের সঙ্ঘাত। ইতিমধ্যে একের পর এক
অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় রীতিমতো চাপে রাজ্য সরকার। পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন
সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা। আমরণ অনশনকে ঘিরে
রীতিমতো তোলপাড় শহর-কলকাতাসহ গোটা রাজ্য। জুনিয়ার চিকিৎসকদের সমর্থনে শুধু
চিকিৎসকরাই নন, প্রতিদিনই সামিল হচ্ছেন সাধারণ মানুষও। তাঁরাও করছেন প্রতীকী অনশনও।
বিদেশ থেকেও অনেকে এসেছেন অনশনকারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে।
আর এই
পরিস্থিতিতেও একবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে কোনও ধরণের বিবৃতি বা আশ্বাস,
সহানুভূতি জানাতে দেখা যায়নি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা, চর্চা। অনশন মঞ্চ থেকে
অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনশনকারীদের কাছে আসার আর্জি জানিয়েও সফল হননি। সামনে এগিয়ে
দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে। আর তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা,চর্চা। অনেকের
প্রশ্ন, তবে অনশনকারীদের অনশন তোলার আর্জি না জানিয়ে কি বার্তা দিতে চাইছেন মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায় ? যদিও সশরীরের
না এলেও ইমেলে আমরণ অনশন তোলার দাবি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
এদিকে
প্রতিবাদের ঝাঁঝ বাড়িয়ে পুজোর কার্নিভালের পাল্টা দ্রোহের কার্নিভালের আয়োজন
করে সংঘাতের পারদ চড়িয়েছেন আন্দোলনকারীরা, যা নিয়ে ঘোর আপত্তি শাসকদলের। তাঁদের
সুরে সুর মিলিয়ে আগামীকালের পুজোর কার্নিভাল বয়কটের আর্জি জানিয়েছে বিজেপি। যদিও
শুরু থেকে তাঁদের এই প্রতিবাদ-আন্দোলনে রাজনীতির অনুপ্রবেশের ঘোর বিরোধিতা করে
আসছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এই আন্দোলনকে আড়াল থেকে মদত দেওয়ার সব রকম চেষ্টা করে
চলেছে গেরুয়া শিবির বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
মঙ্গলবারের পুজো কার্নিভাল বয়কটের ডাক দেওয়ার
পাশাপাশি তারা কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিলে “ অরাজনৈতিক” ভাবে থাকার কথা জানিয়েছে। সেখানে দলীয় পতাকা ছাড়া মিছিলে
সবাইকে সামিল থাকার আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। অনেকেরই ধারণা, আন্দোলনে
সরাসরি আসতে না পেরে এভাবেই ঘুরপথে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পদ্মশিবির। এমনকী
জুনিয়ার চিকিৎসকদের আন্দোলনে চোরা স্রোত হিসেবে বামেরাও ছলে বলে কৌশলে
অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনের ঝাঁঝ তীব্র করার পথ নিয়েছে বলে কারো কারো ধারণা। দুপক্ষেরই
মূল লক্ষ্য সরকারকে বিব্রত করা এবং ভোটের অঙ্কের কথা মাথায় রেখে নিজেদের আখের
গোছানো।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন