Two Lost Hands Transplanted: খোওয়া যাওয়া দু হাত ফেরত পেল যুবক!
তাঁর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা তাঁর দুটি হাত বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর প্রেমা রামের পরিবারের লোকজনেরা তাঁকে জয়পুরের হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসকরা একই পরামর্শ দেন। দুটি হাত বাদ দেওয়ার পর প্রেমা রামের পরিবারের লোকেরা কৃত্রিম হাতের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালান। কিন্তু কৃত্রিম হাত লাগানো হলেও সেই হাত দুটির সাহায্যে কোনও ধরণের কাজ করার ক্ষমতা মতো ছিল না। ফলে তিনি কার্যত পঙ্গু ও পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাঁর বাড়ির লোকেরা প্রতিদিনকার কাজে তাঁকে সাহায্য করে আসছিলেন। বছর বারো আগে এ দেশে কাঁধ থেকে হাত প্রতিস্থাপন একরকম অসম্ভবই ছিল। মনে মনে আশা করতেন একদিন তাঁর এই দুঃখ ঘুচবে। ওই অবস্থায় পড়াশোনাও চালিয়ে যান তিনি। প্রেমা রামের বাবা ইউরোপেও এ ব্যাপারে খোঁজ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে খরচ শুনে পিছিয়ে যান তিনি।
তবে আশা ছাড়েননি প্রেমা রাম। একদিন জানতে পারেন মুম্বইয়ে গ্লোবাল হসপিটালে হাত প্রতিস্থাপন করা হয়। ২০২২ সালে অক্টোবরে সেখানে তাঁর নাম নথিভুক্ত করা হয়। এরপর সেখানে অসাধ্যসাধন করেন প্লাস্টিক, হ্যান্ড অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ মাইক্রোসার্জারি ও ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারির প্রধান ড. নীলেশ জি সৎভাইয়ের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম। তিনি জানান, ছেলেটিকে দেখে মনে হয়েছিল সে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একজোড়া নতুন হাতের আশায় রয়েছে।
সৌভাগ্যক্রমে দাতার কাছ থেকে পাওয়া দুটি হাতের সঙ্গে ছেলেটির হাতের সাইজ ও রং মিলে গিয়েছিল। এবং এর আগে ইউরোপে একজোড়া হাত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছিল। এটিই এশিয়ার প্রথম এক জোড়া হাত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। ফেব্রুয়ারির ন তারিখে ১৬ ঘণ্টা ধরে অপরিসীম ধৈর্যের সঙ্গে চিকিৎসকরা প্রেমা রামের দুটি হাত প্রতিস্থাপন করেন, যা ভারতের চিকিৎসাবিদ্যার ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা বলেই চিহ্নিত। বারো বছর আগে দুই হাত খোওয়ানো প্রেমার দুটি হাত আবার আগের মতোই স্বাভাবিক ও সক্রিয়। সে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন