Rahul Gandhi Attracts Disqualification? রাহুলের সাংসদপদ খারিজ হয়ে গিয়েছে? কী বলছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা...
দি বেঙ্গলি নিউজরুম ওয়েবডেস্ক: ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation Of Peoples Act.1951) বলছে যে মুহূর্তে একজন সাংসদ কোনও অপরাধে কমপক্ষে আদালত দু বছরের সাজা ঘোষণা করবে,সেই মুহূর্তে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হবে (Rahul Gandhi Attracts Disqualification?)। ২০১৯ সালে কর্ণাটকে লোকসভা ভোটের আগে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদবি নিয়ে মন্তব্য করার দায়ে গতকাল সুরাতের আদালত (Court Of Surat) রাহুল গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে দু বছরের সাজা ঘোষণা করেছে। তারপর থেকেই কংগ্রেস সাংসদের সদস্য পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল জানিয়েছেন আদালত তার অদ্ভুত রায়ে রাহুলের দু বছরের সাজা ঘোষণা করায় তাঁর সাংসদপদ টিকিয়ে থাকা মুশকিল। দেশের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে রাহুলের সাংসদপদ খারিজ হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তাঁর পাশাপাশি অন্যান্য আইনি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন আদালত তাঁর দু বছরের কারাবাস ঘোষণা করার সঙ্গেসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদের লোকসভা সদস্যপদ খারিজ হতে বাধ্য, যদি না তিনি কোনওভাবে আদালতের রায় উল্টে দিতে পারেন।
গতকাল আদালত রাহুলকে দোষী সাব্যস্ত করে দু বছরের সাজা ঘোষণা
করে। তবে তিনি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার জন্য তিরিশদিন সময় পেয়েছেন। যদিও
আদালতের রায় আইনের অধীনে সাংসদপদ খারিজের ব্যাপারে রাহুল গান্ধীকে ঝুঁকির মুখে
দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন সুরাত আদালতের নির্দেশের ওপর
ভিত্তি করে লোকসভার সচিবালয় তাঁর সাংসদপদ খারিজ এবং তাঁর কেন্দ্রকে সাংসদ শূন্য
বলে ঘোষণা করতে পারে। তারপর ওই কেন্দ্রে ফের ঘোষণা করতে পারে বিশেষ নির্বাচন
কমিশন। দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিজেপির সাংসদ মহেশ জেঠমালানি জানান আইন অনুযায়ী
রাহুলের সাংসদপদ খারিজ বলেই ধরে নিতে হবে। তবে তা লোকসভার অধ্যক্ষকে জানাতে হবে।
আজকের হিসেবে রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ বলেই গণ্য করতে হবে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয়
আইনমন্ত্রী ও প্রবীণ আইনজীবী যিনি এর আগে কংগ্রেসে ছিল সেই কপিল সিব্বল
সংবাদমাধ্যমকে জানান দু বছর কারাবাস ঘোষণার পর রাহুল গান্ধীর সাংসদপদ খারিজ হয়ে
গিয়েছে। তিনি জানান যদি শুধু আদালত কারাদণ্ড সাসপেন্ড করে, তাহলেও সেটা যথেষ্ট নয়।
কারাদণ্ডের নির্দেশ সাসপেন্ড বা স্থগিত করা জরুরি। ওই রায়ে যদি স্থগিতাদেশ জারি
হয়, তাহলে রাহুল গান্ধীর সাংসদপদ টিকে যাবে। তবে যদি উচ্চ আদালতে রায় বাতিল না হয়,
তাহলে রাহুলকে পরের আটবছর ভোটে লড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। রাহুলের তরফে কংগ্রেস
অবশ্য জানিয়েছে কংগ্রেস সাংসদ সেশনস কোর্টে সুরাত কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ
জানানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেখানে আবেদন গ্রাহ্য না হলে সুপ্রিম কোর্টের
দ্বারস্থ হবে রাহুল গান্ধী বলে কংগ্রেস শিবির থেকে জানা গিয়েছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন