TMC And BJP Blame Game : রামনবমীকে ঘিরে হিংসা, ভিডিও শেয়ার করে চাপান উতোর তৃণমূল-বিজেপির

 


দি বেঙ্গলি নিউজরুম ওয়েবডেস্ক: হাওড়ায় রামনবমীকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনায় চরমে উঠল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির চাপানউতোর (TMC And BJP Blame Game)। হিংসায় কারা মদত দিয়েছে,তা প্রমাণে দুদলই ভিডিও তুলে ধরেছে (Video Shared By TMC And BJP)। এদিন ফের হিংসা দেখা দেওয়ায় দুপুর একটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয় জিটি রোড সংলগ্ন শিবপুর। পরে তা খুলে দেওয়া হয়। গতকাল রামনবমীতে শিবপুরের কাজিপাড়া দিয়ে রামনবমীর মিছিল যাওয়ার সময় দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। হিংসার জেরে একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চলে ভাঙচুর। দোকান লক্ষ্য করে ইট মারা যায়। যার জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এই ঘটনার পেছনে কারা ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে নির্দিষ্ট রাস্তা না দিয়ে গিয়ে রামনবমীর মিছিল অন্য রাস্তা দিয়ে যায়। যার লক্ষ্য ছিল একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করে অশান্তি পাকানো। বিজেপির পেশ করা ভিডিওয় দেখা যায় কিছু মানুষ দোকান ভাঙচুর করছে এবং রাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট মারছেন। 

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দেওয়া ভিডিওয় দেখা যায় কয়েকজনকে লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের হাতে অস্ত্র ও তলোয়ার রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে হিংসায় প্ররোচনা দিচ্ছে। ভিডিওয় রামনবমী মিছিলে যোগদানকারীদের হাতে অস্ত্র দেখা গিয়েছে। অভিষেক বলেন, অপরাধীদের কোনও ধর্ম হয় না। তিনি (পড়ুন শুভেন্দু অধিকারী) দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার পরের দিন জনসভায় বলেছিলেন পরের দিন টিভি দেখুন। আপনারা ক্রোনোলজি দেখুন। শাহের সঙ্গে শুভেন্দুর সাক্ষাৎ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরোধীদের নিশানা করে প্রায়শই ব্যবহার করা কথা ( আপ ক্রোনোলজি সমঝিয়ে) বলে খোঁচা দেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ বিজেপি হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত চেয়ে আর্জি জানিয়েছে। কারণ তারা শাস্তি এড়াতে রাজ্যে কোনওরকম তদন্তের মুখোমুখি হতে চায় না। বিজেপি জানে রাজ্যে তদন্ত হলে তারা ধরা পড়ে যাবে। এদিন অমিত শাহ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ও বিজেপির প্রধান সুকান্ত মজুমদারকে ফোন করে রামনবমী নিয়ে অশান্তির পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতি নিয়ে খোঁজ নেন। রাজ্যপাল শীঘ্রই উপদ্রুত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য বিজেপিকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ বাংলায় সাম্প্রদায়িক অশান্তি বাধানোর জন্য বহিরাগত গুণ্ডাদের ভাড়া করে নিয়ে এসেছিল। পাল্টা বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন বাংলায় হিন্দুরা হুমকির মুখে রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা সংখ্যালঘু তোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ জানান লকেট। জানান, এটাই খুবই বেদনাদায়ক। প্রতিবার রামনবমী ও দুর্গাপুজোর ভাসানে একই ছবি দেখা যায়। এ রাজ্যে হিন্দুরা হুমকির মুখে রয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। হাওড়ায় কাল যখন হিংসার ঘটনা ঘটছিল,তখন মুখ্যমন্ত্রী ধর্মতলায় তিরিশ ঘণ্টা ধরে ধর্নায় বসেছিলেন।

 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Girls Trafficking Racket By NGO :গণবিবাহের নামে মেয়ে বিক্রির চক্র, কাঠগড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা!

Alor Fulki- A Classic Documentary: আলোর ফুলকি, কল্পনার নির্যাসে তৈরি অন্য এক রূপকথার খোঁজ

RBI Clarifies On Missing Notes: কোটি কোটি পাঁচশো টাকার নোট উধাও, তথ্যাধিকারের তথ্য উড়িয়ে দিল আরবিআই!