Electoral Bond: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল ইলেকটোরাল বন্ড, সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে কোন রাজনৈতিক দল?
দি বেঙ্গলি নিউজরুম: মাস কয়েক বাকি লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই ইলেকটোরাল বন্ড নিয়ে রীতিমতো বোমা ফাটাল দেশের শীর্ষ আদালত।
এদিন প্রধানবিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে গড়া পাঁচ বিচারপতিকে নিয়ে বেঞ্চ ঘোষণা করল ইলেক্টোরাল বন্ড পুরোপুরি অসাংবিধানিক। আদালত ইলেকটোরাল বন্ডকে বাতিল ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে এই ধরণের প্রকল্প নাগরিকদের মৌলিক তথ্যাধিকার লঙ্ঘন করছে। শীর্ষ আদালতের এ ধরণের পর্যবেক্ষণে সব থেকে বেশি আঘাত নেমে এসেছে শাসক দল বিজেপির ওপর। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট অনুদানের ৬০ শতাংশ তারাই পেয়েছে।
ইলেকটোরাল বন্ডগুলি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিচয় গোপন রেখে রাজনৈতিক দলগুলিকে আর্থিক সহায়তা করার একটি উপায়। ২০১৮ সালে এই বন্ড চালু করে বিজেপি সরকার। নগদ অনুদানের বদলে ইলেকটোরাল বন্ডের মাধ্যমে আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকে রাজনৈতিক দলগুলি। রাজনৈতিক তহবিলের স্বচ্ছতা আনতেই ইলেকটোরাল বন্ড চালু করা হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ষোল হাজার চারশো সাইত্রিশ কোটি তেষট্টি লক্ষ ইলেকটোরাল বন্ড বিক্রি করা হয়েছে। এই বন্ডে সবথেকে বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে বিজেপি। ইলেকটোরাল বন্ডের মাধ্যমে তারা সংগ্রহ করেছে দশ হাজার একশো বাইশ কোটি টাকা। তারপরই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সংগ্রহ এক হাজার পাঁচশো সাতচল্লিশ কোটি টাকা।
শতাংশের নিরিখে ওই একইসময়ে বিক্রি হওয়া মোট বন্ডের অঙ্কের ১০ শতাংশ তারা পেয়েছে। এ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সংগ্রহে ৮২৩ কোটি টাকা, যা বিক্রি হওয়া মোট ইলেকটোরাল বন্ডের ৮ শতাংশ। বন্ডের মাধ্যমে বিজেপিকে দেওয়া অনুদানের অঙ্ক তিরিশটি রাজনৈতিক দলের সংগৃহীত তহবিলের তিন গুণ বেশি। কমিশনের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিজেপি কংগ্রেসের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি পেয়েছে অনুদান। দেশে কালো টাকা নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে ইলেকটোরাল বন্ড চালু করে রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া অনুদানে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলেছে প্রকল্পের লক্ষ্য এতে কোনওভাবেই সাধিত হয়নি। বাড়তি হিসেবে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে তা লক্ষ্য পূরণে সমর্থ হতে পারতো।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন