Sandeshkhali Update: সন্দেশখালি ধর্ষণকাণ্ডে পুলিশের জালে সেই শিবু হাজরা, তৃণমূল সরকারের ড্যামেজ কন্ট্রোলে ক্ষোভ প্রশমিত হবে কি

দি বেঙ্গল নিউজরুম: সন্দেশখালি নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যেই শনিবার ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে নিখোঁজ থাকার পর অভিযুক্ত ব্লক সভাপতি শিবুপ্রসাদ হাজরাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এই ঘটনায় আরও এক তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়। সন্দেশখালির মহিলারা তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন হেনস্থার অভিযোগ করার পর থেকে নিখোঁজ ছিল শিবু। ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে শেষপর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হল। তার বিরুদ্ধে এফআইআরে ধর্ষণের বিভিন্ন ধারা আনা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে সন্দেশখালি নিয়ে রাজনৈতিক অশান্তি শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে, যে অশান্তির মধ্যমণি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদের পদাধিকারী শেখ শাজাহান এখনও অধরা। রাজনৈতিক অশান্তির সেই আগুনকে প্রশমিত করতে ধর্ষণে অভিযুক্ত শেখ শাজাহানের সঙ্গী শিবু হাজরাকে গ্রেফতার করে ক্ষোভে প্রলেপ দিতে সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিরোধীদের বক্তব্য। বস্তুত সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী দল বিজেপি পরস্পরের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ জানিয়ে চলেছে। শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে সন্দেশখালি গ্রামে বিজেপি ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলকে আটকে দেয় পুলিশ। এদিকে এই অশান্তির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করেন আরএসএস শেখ শাজাহানের বাড়িতে ইডিকে দিয়ে তল্লাশি করিয়েছে। এরআগে শাজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে ইডির আধিকারিকরা গেলে জনতা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। জখম ই়ডির আধিকারিক। ভাঙচুর করা হয় ইডির গাড়ি। গোটা বিষয়টি জ্বলন্ত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। শাসক দলের দিকে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে বিজেপি। সন্দেশখালির মহিলারা শেখ শাজাহান, শিবু হাজরা, উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে গ্রামের মহিলাদের ওপর যৌন হেনস্থার অভিযোগে ঝাঁটা,লাঠি নিয়ে পথে নামেন মহিলারা। বিষয়টি নিয়ে সরব হন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তিনি অভিযোগ করেন বিবাহিতা হিন্দু মহিলাদের ওপর যৌন হেনস্থা করেছে শাজাহানের দল। কেন্দ্র চুপ করে বসে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন ইরানি। রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল রাজীবকুমার জানিয়েছেন এক মহিলার সঙ্গে যখন পুলিশ কথা বলে তিনি কোনও অভিযোগ করেননি। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপুলিশের প্রধান জানান বহু মহিলার সঙ্গে কথা বলা সত্ত্বেও কোনও মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ করেননি। এক মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ধর্ষণের অভিযাগ জানিয়েছেন যা এফআইআরে যুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিদির ১৪৪ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে রাজীবকুমার বলেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং গ্রামে রাজনৈতিক দলগুলির যাওয়া রুখতে ওই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল। পুলিশ প্রধান বলেন, যেহেতু কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, সেক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সেখানকার মানুষ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন, সেকারণেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। অনেকে আইন নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, এ কারণেই ওই ধারা জারি করা হয়েছিল। সত্যি যাই হোক না কেন, প্রশাসন তার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাজীবকুমার।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Girls Trafficking Racket By NGO :গণবিবাহের নামে মেয়ে বিক্রির চক্র, কাঠগড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা!

Alor Fulki- A Classic Documentary: আলোর ফুলকি, কল্পনার নির্যাসে তৈরি অন্য এক রূপকথার খোঁজ

RBI Clarifies On Missing Notes: কোটি কোটি পাঁচশো টাকার নোট উধাও, তথ্যাধিকারের তথ্য উড়িয়ে দিল আরবিআই!