
দি বেঙ্গলি নিউজরুম: সারদা কেলেঙ্কারি থেকে শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে দুর্নীতি, গোরু পাচার, রেশন কেলেঙ্কারিতে কোটি কোটি টাকা চুরি, জেলে দলের একদা সেকেন্ড ইন কমান্ড, প্রভাবশালী মন্ত্রী। এর আগে জেলে থেকে এসেছেন আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রী। যেখানেই কোটি কোটি টাকা লুট, সেখানেই নাম জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সিবিআই, ইডির নাগপাশ থেকে রেহাই মেলেনি দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক এবং এই মুহুর্তে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লাগাতার কেলেঙ্কারি, গ্রেফতারির মধ্যেই শাসক দলের রক্তচাপ বাড়িয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে সন্দেশখালি। বেআইনিভাবে গ্রামবাসীদের জমি দখল থেকে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের অভিযোগে সপ্তা দুই ধরেই ফুটছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই এলাকা। এদিনও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুরু থেকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান এবং তার শাগরেদদের দিকে। যদিও এত সবের মধ্যে এখনও রহস্যজনকভাবে অধরা শাহজাহান। তার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের মাত্রাছাড়া বিস্ফোরক ক্ষোভে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট বিপাকে শাসকদল। লোকসভা ভোটের আগে এই ইস্যুকে অস্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ শানিয়ে চলেছে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস। এই ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্য থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা। বিশেষ করে ইডি-সিবিআইয়ের দৌরাত্ম্যে কোণঠাসা করে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে তৎপর কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বলে পাল্টা অভিযোগের আঙুল তুলেছে শাসক তৃণমূল সরকার। সবমিলিয়ে আপাতদৃষ্টিতে ক্ষমতার সুতো হাতছাড়া হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাহলে সত্যিই কী এ রাজ্যে শাসকদলের প্রভাব কমতে শুরু করেছে?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন একুশের বিধানসভা ভোটের আগেও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে এমন সংশয় তৈরি হয়েছিল। জল্পনা শুরু হয়েছিল এবার আর নবান্নের মসনদে জাঁকিয়ে বসতে পারবে না তৃণমূল। ক্ষমতার রাশ চলে আসছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির হাতে। কিন্তু সেই সংশয় উড়িয়ে ভোট বৈতরণি পার হয়েছিল তৃণমূল। তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়েছিল তারা। কিন্তু একের পর এক কোটি কোটি কেলেঙ্কারির ধাক্কায় বেসামাল এবং সন্দেশখালির নয়া বিপর্যয়ে তৃণমূল কি এবার লোকসভা ভোটের বৈতরণি পার হতে পারবে? বিজেপি-সহ বিরোধীদের আক্রমণ ঠেকিয়ে এবারও কি তারা নিজেদের জায়গা দখল করতে পারবে। দলের ভাবমূর্তি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট ম্লান। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার সম্ভবত ঘাসফুল শিবিরকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সন্দেশখালি সেই চ্যালেঞ্জ সামনে এনে দিয়েছে শাসকদলকে। ড্যামেজ কন্ট্রোল করে কি তারা ফেরাতে পারবে নিজেদের হারানো সম্মান। একের পর এক দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাজ্যে নারী নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখ দাঁড় করানোর প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশমা সম্ভবত এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একের পর এক জনমুখি প্রকল্পের পরেও এই মুহূর্তে দলের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন শুরু করে দিয়েছেন রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ। প্রাপ্তির ঘর ভরার চেষ্টা সত্ত্বেও মুহূর্মুহু অভিযোগের ঝাপটায় শাসকদল যখন ব্যতিব্যস্ত,তখনও তৃণমূল বিশ্বাস করছে দলনেত্রীর ক্যারিশমাই দলকে উতরে দেবে। সেই বিশ্বাসের সারসত্য কতটা আছে, তা আপাতত প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়েছে।
একদল মনে করছেন চুরি দু্র্নীত শাহজাহান কাণ্ড যতই ঘাসফুল শিবিরকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করাক, দলনেত্রীর একের পর এক আর্থিক সুবিধের কারণে বাংলার মানুষ দলকে ফের জয়ী করবে। কারণ বিরোধী দলের গ্রহণযোগ্যতাই এখনও এরাজ্যে তৈরি হয়নি। আরেকদলের মতে, তৃণমূল সরকার তথা সুবিধেভোগীরাই তৃণমূলকে জয়ীর আসনে বসাবে। ফলে এবারের লোকসভা ভোটেও ভালো ফল করবে। আর রাজ্যে ক্ষমতা বদলের প্রশ্নে এখনও তৃণমূল কংগ্রেসকে ব্রাত্য করেননি বাংলার মানুষ। বর্তমান রাজনীতি নিয়ে বীতশ্রদ্ধরা স্বীকার করেছেন একুশের বিধানসভা ভোটেও সমস্ত সংশয়,জল্পনাকে ভুল প্রমাণিত করে দেবে। এ রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প এখনও দূর অস্ত। সিপিএম গর্জন করলেও সেই গর্জন যে অসার তা আগের ভোটগুলিতে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোটের ময়দানে বাকিদের পরাস্ত করার উপযুক্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে নেতা-মন্ত্রীরা জেলে থাকলেও মমতার জনমুখি প্রকল্পই ভোটের লড়াইয়ে ডিভিডেন্ড দেবে। ইতিমধ্যেই কন্যাশ্রী,রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, বার্ধক্যভাতায় উপকৃত হয়েছেন রাজ্যের অসংখ্য মানুষ। তাই তৃণমূল অন্দরের ধারণা এইসব প্রকল্পগুলিই তাদের লড়াইয়ে শুধু সামনের সারিতে রাখবে। শুধু রাখবেই না বিরোধীদলকে দুরমুশ করে দেবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন