দি বেঙ্গলি নিউজরুম ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banejee) তৃণমূল কংগ্রেসকে বিশেষ কোনও
বার্তা দিতেই কি পশ্চিমবঙ্গে অমিত-শাসানি (Amit Shah Targets Mamata And
TMC)? আর সেই হুঙ্কার দিতে অনুব্রতের গড় বীরভূমকে বেছে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একুশের বিধানসভা ভোটে গোটা রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই চষে
বেরিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। আশঙ্কা ছিল এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা
ছেড়ে বিরোধী আসনে বসতে হবে। কিন্তু সেই প্রেস্টিজ ফাইটে জিতে গিয়েছিলেন মমতা। বিজেপি
বেগ দিলেও স্কোর বোর্ডের ফলাফলে উইনার হিসেবে থেকে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের
নাম। সারদা-নারদা থেকে শতেক কেলেঙ্কারি থাকলেও শেষ হাসি হেসেছিল তারা। বিধানসভায়
জেতার পর থেকে শিক্ষক চাকরি দুর্নীতি, গোরুপাচার,কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে পরপর
দুর্নীতির ছোবলের বিদ্ধ ঘাসফুল শিবির। এমনকী মিড ডে মিলে একশো কোটি টাকার
কারচুপি নিয়েও প্রশ্নের মুখে। এরওপর দলীয় কোন্দলে জর্জরিত তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু
তারপরেও কেন পঞ্চায়েত ভোটের আগে গভীর চিন্তায় বিজেপি। এবারও কী পঞ্চায়েত ভোটে
তাদের ময়দান ছেড়ে যেতে হবে? কেন প্রতিদিনই শাসক দলের
ভিভিআইপি নেতাদের কেলেঙ্কারি সামনে এনে আক্রমণকে আরও ধারালো করতে হচ্ছে বিজেপিকে?
এমনসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। বিরোধী দলনেতা
শুভেন্দু অধিকারী প্রতিদিনই শাসকদলের কেলেঙ্কারি ফাঁস করে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে
ঢ্যাঁড়া পেটাচ্ছেন। যোগ্যসঙ্গত করে চলেছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
সঙ্গে প্রবল গরমকে উপেক্ষা করে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ মিছিল তো রয়েছেই। কিন্তু গেরুয়া
শিবিরের সেই অস্ত্র কি পঞ্চায়েত ভোটে কোনও কাজে লাগবে, এমন প্রশ্ন উঠেছে
রাজনৈতিক মহলে। তাই পঞ্চায়েত ভোটের আগে তৃণমূল বিরোধিতাকে উত্ত্যুঙ্গে পৌঁছে
দিতে এবার আসরে হাজির হয়েছেন একুশের বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে অন্যতম ডেলি
প্যাসেঞ্জার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর লড়াইকে জোরদার করতে তৃণমূল
নেত্রীর কিছুদিন আগেও বড় ভরসা জেলবন্দি অনুব্রত মণ্ডলের দুর্গ থেকেই কামান দাগা শুরু
করে দিলেন তিনি। অনেক অঙ্ক কষেই অনুব্রতের হারানো দুর্গকে বেছে নিয়েছেন কেন্দ্রীয়
সরকারের সেকেন্ড ইন কমান্ড। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পঞ্চায়েত ভোটের আগে কেষ্টর গড়কে
অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছেন শাহ।
কিন্তু প্রশ্ন, দল যতই দুর্নীতিতে ডুবে থাকা মমতার ক্যারিশমার কাছে কি পাল্টা
লড়াই দিতে পারবেন তিনি। কারণ একের পর এক প্রকল্পে রাজ্যের মানুষকে সুবিধে পাইয়ে
দিয়ে ইতিমধ্যেই একটা বিশ্বাসের জায়গা করে নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সেই আসন কী
দুর্নীতি,কেলেঙ্কারির অপবাদ দিয়ে সফল হতে পারবেন অমিত শাহ তথা শুভেন্দু-সুকান্তরা?
আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের ফলই তার প্রমাণ দেবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন