TMC Changed Stand Towards Congress : “শত্রু” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হঠাৎ সুরবদল তৃণমূলের, বোঝাপড়ার তত্ত্ব নিয়ে জল্পনা,গুঞ্জন
দি বেঙ্গলি নিউজরুম ওয়েবডেস্ক: রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রুতা (No Permanent Enmity) বলে কিছু হয় না। এক মাস আগেই মেঘালয়ে বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের মধ্যে চরমে উঠেছিল বিবাদ (TMC And Congress Conflict)। শিলংয়ে জনসভায় তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ রাহুল গান্ধী। তৃণমূল কংগ্রেসকে বিজেপির দোসর বলে বিঁধেছিলেন রাহুল। পরে দলের কর্মিসভায় পাল্টা রাহুলকেও দুষেছিলেন মমতা। এরপর রাজ্যের সাগরদিঘিতে কংগ্রেসের কাছে হারের পর তৃণমূল কংগ্রেসের রোষ আরও চরম আকার নিয়েছিল। তারাও বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের আঁতাঁত নিয়ে সরব হয়। কিন্তু রাহুল গান্ধীর সাংসদপদ খারিজে সেই রোষ পাল্টে গিয়ে এখন বিরোধীদের এক মঞ্চে নিয়ে এসেছে। এমনকী এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আন্দোলন থেকে সরে থাকার নীতি নিয়ে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানও (TMC Changed Stand Towards Congress) বদলাতে শুরু করেছে, সৌজন্যে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ ইস্যু।
আগের অবস্থান থেকে তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে রাহুল ইস্যুতে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার স্পষ্ট ইঙ্গিতও দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল, যা লোকসভা ভোটের আগে বিরোধীদের অক্সিজেন এনে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মূলত রাহুলের ইস্যুই এবার ২০২৪য়ে লোকসভা ভোটে বিরোধীদের একমঞ্চে এনে গেরুয়া শিবিরকে কড়া বার্তা দিতে চলেছে। পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে কংগ্রেসের প্রতি তাদের নমনীয় মনোভাবকে তুলে ধরতে শুধু রাহুল ইস্যুতে টুইট করে নয়, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগের অফিসে বিরোধী সভায় তাদের দুই প্রতিনিধি পাঠিয়ে কিছুদিন আগে ঘোর শত্রু কংগ্রেসের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। কিন্তু মাস খানেক আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে অকংগ্রেসি-অবিজেপি তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার জন্য উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখিয়েছিলেন। এমনকী মে মাসে পঞ্চায়েত ভোট ও আসন্ন লোকসভা ভোটে একলা চলো নীতি নিয়ে চলার বার্তাও দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিন্তু এই মুহূর্তে যে প্রশ্নটা ঘুরপাক
খাচ্ছে, সেটা হল এমন কি ঘটনা অনুঘটক হিসেবে কাজ করল যাতে কংগ্রেসের প্রতি নমনীয়
ভাব নিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎসাহিত করল? এর পেছনে কি শুধুই
রাহুল গান্ধীর সাংসদপদ খারিজ ইস্যু? কিছুদিন আগেও দলের
মুখপাত্র জাগো বাংলায় কংগ্রেসকে বিজেপির বি-টিম বলে জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
লেখা হয়েছিল রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির শক্তির সঙ্গে পাঞ্জা কষার
উপযুক্ত নন। পাশাপাশি আরও জোরালো ভাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ হেনেছিলেন রাহুলের
কড়া সমালোচক দলের সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মার্চের উনত্রিশ
তারিখে বিজেপি ও সিপিএমের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেও কংগ্রেস সম্পর্কে একটি শব্দও
খরচ করেননি তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড। একইসঙ্গে জানিয়েছেন তিনি তাঁদের
দলের আইনি সেলের কাছ থেকে সুরাতে রাহুলের মামলার রায়ের খুঁটিনাটি জেনে মোদীর
বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর
দিদি-ও-দিদি আক্রমণ নিয়ে মামলা করার সম্ভাবনাগুলি খতিয়ে দেখবেন। প্রশ্ন উঠেছে
তৃণমূল কংগ্রেসের আচমকা অবস্থানের পেছনে কি কারণ রয়েছে। এ নিয়ে নানা তত্ত্ব এখন
বাতাসে ঘুরপাক খাচ্ছে। তার মধ্যে একটি হল, এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নির্বিচার
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় মঞ্চ গড়ে তোলা। ঘটনা হল এ নিয়ে উদ্যোগ ইতিমধ্যেই
সক্রিয়। ১৪টি বিরোধীদল কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের
দ্বারস্থ হয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে তাদের দলের নেতাদের কেন্দ্রীয়
এজেন্সির গ্রেফতারি থেকে মুক্তির ব্যাপারেই বেশি উদগ্রীব বলেই ধারণা রাজনৈতিক
মহলের। এ ব্যাপারে বিরোধী দলগুলির সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যেই ঘাসফুল শিবির তৎপর বলে
মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ইতিমধ্যেই রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে কয়লা পাচার কাণ্ডে
ইডি তলব করেছে। আপাতত শারীরিক কারণে সেই তলব এড়িয়ে গিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি ইডি
ফের মমতার পরিবারের লোকজনদের দরজায় হানা দিতে পারে, এমন একটা কথাও বাতাসে ভেসে
বেড়াচ্ছে। আবার রাহুল গান্ধীর সাংসদপদ খারিজ ইস্যুতে বিরোধীদের মধ্যে একদিকে
যেমন সহানুভূতি তৈরি হয়েছে, তেমনই কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে হেনস্থার ভয়ও কাজ করছে।
সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস যদি সামিল না হয়, এমনকী বিরোধী দলগুলির নেতাদের
সঙ্গে তাদের দেখা না যায়, তাহলে সেটা ঘাসফুল শিবিরের পক্ষে বোকামির কাজ হবে বলে
মনে করছে রাজনৈতিক মহল। চরম বিপদের দিনে রাহুলের পাশে না থাকলে দেশের মানুষের কাছে
তাদের ভাবমূর্তি অনেক নীচে নেমে যাবে, এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এই সময়ে
দূরে সরে থাকা মোদী-মমতার গোপন বোঝাপড়ার জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলবে।
আরেকটি কারণেও কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের
মতে, কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক অটুট থাকবে।
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে কংগ্রেসের কাছে হারের পরেই রাজ্যের মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক
নিয়ে সিঁদূরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো। সাগরদিঘিতে
মুসলিম জনসংখ্যার হার ৬১ শতাংশ। সেখানে বাইশ হাজার ভোটে হেরেছেন তৃণমূল কংগ্রেস
প্রার্থী, যা মমতার কপালে চওড়া ভাঁজ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হারের পর
ড্যামেজ কন্ট্রোল করে সেখানে নেতৃত্বে বদল আনেন তৃণমূল নেত্রী। বদল আনেন
সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরে। ঘটনা হল মুসলিমরা কংগ্রেস ও সিপিএমকে ধর্মনিরপক্ষ বলেই
মনে করেন। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মুসলিম ভোট কংগ্রেস- সিপিএমের চলে যাওয়া মানে
ওই দুদলের লাভ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেক্ষেত্রে রাহুল ইস্যুতে কংগ্রেসের
পাশে থাকা মুসলিমদের কাছে এক বার্তা দিতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অনেকেরই মতে,
রাহুল ইস্যুতে কংগ্রেসের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারতে
চাইছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন