El Nino Returns: ফিরে আসছে সেই এল নিনো, এবার ভয়াবহ গরমে পুড়বে সারা বিশ্বের মানুষ?

দি বেঙ্গলি নিউজরুম নিউজডেস্ক: তাপমাত্রা চুয়াল্লিশ-পঁয়তাল্লিশেই সবার ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। হিট স্ট্রোকে ব্ল্যাক আউট হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক শুরু হয়েছে, ঠিক সেসময়ই আরও অসহনীয়, আরও ভয়ঙ্কর গরম নিয়ে আরও চমকে দেওয়া খবর শোনালেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, ২০২৩-২০২৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর (El Nino Returns) সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ফলে সারা বিশ্বে গড়পড়তা তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেত পারে। ক্লাইমেট মডেল (Climate Model) অনুযায়ী প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা আবহাওয়ার ধাঁচ পরিবর্তনের তিন বছর পর সারা পৃথিবীর মানুষ এল নিনোর প্রত্যাবর্তন মালুম করতে পারবেন। লা নিনা আবহাওয়ার ফলে তাপমাত্রা সামান্য কমে থাকে। কিন্তু এ বছরের শেষের দিকে এল নিনো ফিরে এলে সেই তাপমাত্রা সবার সহ্যের বাইরে চলে যাবে। এল নিনোর সময় বাতাস খুব মন্থরভাবে নীচু হয়ে বয়, এবং উষ্ণ জল পূব দিকে এগোতে থাকে। তাতে সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। 


ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জেস সার্ভিসের ডিরেক্টর কার্লো বুয়োটেম্পোর মতে, এল নিনো সাধারণত বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার সঙ্গে যুক্ত। তবে সেটা এবছর না পরের বছর ঘটবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে তাঁর মতে, এল নিনো হবে না, এটা বলার চেয়ে বলা যেতে পারে এর যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। ক্লাইমেট মডেল থেকে জানা গিয়েছে গরমকালের শেষদিকে এল নিনো হানা দিতে পারে। একটি শক্তিশালী এল নিনো এবছরের শেষাশেষি ছোবল মারার জন্য তৈরি হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ২০১৬ সালে গরম আগের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। এবং ঘটনাচক্রে সেসময়ই শক্তিশালী এল নিনোও আঘাত হেনেছিল পৃথিবীতে। সঙ্গী ছিল মাত্রাছাড়া তাপমাত্রা। আর সেটা ছিল একেবারেই অচেনা। গত আট বছর ছিল বিশ্বে উষ্ণতম সময়। যা গ্রিন হাউসের গ্যাস নির্গমণ দ্বারা লম্বা গরম আবহাওয়া। লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজের গ্র্যান্টহ্যাম ইনস্টিটিউটের সিনিয়র লেকচারার ফ্রেডেরিকে ওট্টো জানিয়েছেন যেসব দেশগুলি ভয়ঙ্কর তাপপ্রবাহ,খরা ও দাবানলের শিকার, সেসব দেশে এল নিনোর জেরে তাপমাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন যদি এল নিনো ঘোঁট পাকাতে শুরু করে,তাহলে তাপমাত্রা ২০১৬ সালের থেকেও তাপমাত্রা দুর্বিষহ হবে। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত রিপোর্টে গত বছর সারা বিশ্বে চরম উষ্ণতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার মূল্যায়ন করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইউরোপ উষ্ণতম গরমকালের সাক্ষী হয়েছিল। টেমসের নদী শুকিয়ে খটখটে হয়ে যায়। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে পাকিস্তানে ভয়ঙ্কর বন্যা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে আন্টারটিকা সমুদ্রস্তর রেকর্ড ছাপিয়ে নিচের দিকে নেমে যায়। বর্তমানে সারা বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রাক শিল্প আমলের থেকে ১.২ সি বেশি। সবমিলিয়ে এল নিনোর প্রত্যাবর্তনের জেরে ভয়ঙ্কর ত্রাস সন্ত্রাসের শিকার হতে পারে বিশ্ব বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।   

  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Girls Trafficking Racket By NGO :গণবিবাহের নামে মেয়ে বিক্রির চক্র, কাঠগড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা!

Alor Fulki- A Classic Documentary: আলোর ফুলকি, কল্পনার নির্যাসে তৈরি অন্য এক রূপকথার খোঁজ

RBI Clarifies On Missing Notes: কোটি কোটি পাঁচশো টাকার নোট উধাও, তথ্যাধিকারের তথ্য উড়িয়ে দিল আরবিআই!