Philanthropist Enterpreuner: ফুলের দিন হোলো যে অবসান, চলে গেলেন স্বপ্নদর্শী মানবদরদী শিল্পোদ্যোগী অজিত গঙ্গোপাধ্যায়
দি বেঙ্গলি নিউজরুম ওয়েবডেস্ক: বরাবরই নিজেকে প্রচারের আলো (Kept Low Profile) থেকে দূরে থাকতে চাইতেন। মানব সেবা মানেই প্রচারের হাই ভোল্টেজ থাকতে হবে, কোনওদিনই বিশ্বাস করতেন না। ছিলেন স্বপ্নদর্শী মানুষ। সেই স্বপ্ন দেখতে দেখতেই একদিন নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন ইট তৈরির কারখানা, হুগলির চুঁচুড়ায়(Chinsura)। নাম নলিনী ব্রিক ফিল্ড (Nalini Brick Field)। সেই কারখানাকে বড় করে তোলার পাশাপাশি তৈরি করেছিলেন স্কুল। একদিকে দুরন্ত গতিতে ব্যবসায় এগিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে অন্তঃস্থলে থাকা মানুষের জন্য কিছু একটা করা। দু ক্ষেত্রেই সমান পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন অজিতকুমার গঙ্গোপাধ্যায়। জন্ম হয়েছিল ১৯৩২ সালে। পরিণত বয়েসে পৌঁছনোর আগেই নলিনী ব্রিক ফিল্ডকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন সাফল্যের চূড়়োয়। প্রমাণ করেছিলেন বাঙালির ব্যবসা নিয়ে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ভাবনাকে। তাঁর তৈরি ইঁটের কারখানা দুশোরও বেশি পরিবারের অন্ন সংস্থান করে এসেছে। তাঁর অবর্তমানে তারা কার্যতই অভিভাবকহীন।
ব্যবসাতেও তৈরি করেছিলেন আলাদা একটা তাঁর নিজস্ব ভাবমূর্তি। আর পাঁচজনের মতো গতানুগতিক ঘেরাটোপে আটকে থাকতে চাননি। ব্যবসা নিয়ে একটু এগিয়ে
যেতে ভালোবাসতেন। তাই ইঁট শিল্পে উন্নতির জন্য ইঁট তৈরির আধুনিক যন্ত্রের খোঁজ
নিতে উড়ে গিয়েছিলেন চিনে। সেখান থেকে নিয়ে এসেছিলেন অত্যাধুনিক যন্ত্র। মিলেওছিল
আকাশছোঁয়া সাফল্য। ব্যবসায় বিপুল সাফল্যের পরই বাকি জীবনের বেশির ভাগ সময়ই
কাটিয়েছিলেন সমাজসেবায়। যুক্ত হয়েছিলেন অনাথ শিশুদের সেবায়, স্কুলে। ব্যবসার মতো
সমাজসেবাতেই তাঁকে সবাই আলাদা করে চিনে নিয়েছিলেন। বিশ্বাস করতেন শ্রীকৃষ্ণের সেই
অমর বাণী। কর্ম করে যাও, ফলের আশা কোরো না। তাঁর বিশ্বাস ছিল কাজে। তাঁর সেই
অক্লান্ত নিষ্ঠার ফসলও পেয়েছিলেন মানবদরদী অজিতবাবু। সম্প্রতি চলে গেলেন সেই
মানুষটি। তাঁর প্রয়াণের পর সুযোগ্য ছেলে নিউরো-মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ড. গৌতম
গঙ্গোপাধ্যায় এগিয়ে নিয়ে চলেছেন স্বপ্নদর্শী বাবার নলিনী ব্রিক ফিল্ডকে। বাবার
প্রতিশ্রুতি বর্ণে বর্ণে পালনে স্থির প্রতিজ্ঞ তিনি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন